যারা আশা/মনে করেন শরিয়া আইন কার্যকর হলে ধর্ষণ কমে যাবে তারা একটু ভাল করে পড়ুন।
শরিয়া আইনে ধর্ষণ কি?
শরিয়া আইনে জেনা আর ধর্ষণ একই জিনিস।
“বলপ্রয়োগকারী জেনার শাস্তি ভোগ করিবে যদি বলপ্রয়োগ প্রমাণিত হয়।”
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ১ম খণ্ড, ধারা ১৩৪খ। তাহলে জেনা কি?
“কোনো পুরুষ বা নারী বলপ্রয়োগ করিয়া পর্যায়ক্রমে কোনো নারী বা পুরুষের সহিত সঙ্গম করিলে তাহা জেনা হিসেবে গণ্য হইবে।”
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ১ম খণ্ড, ধারা ১৩৪। জেনা কি ধরণের মামলা?
চুরি-ডাকাতি-মদ্যপান-খুন-জখম-মানহানি-জেনা (এগুলো হুদুদ মামলা) প্রমাণ চারজন পুরুষ সাক্ষী, নারী সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ১ম খণ্ড ধারা ১৩৩; শফি আইন 0.13.1, 0.24.9; মুহিউদ্দীন খানের অনুদিত বাংলা কোরান – পৃষ্ঠা ২৩৯ আর ৯২৮; ‘দ্য পেনাল ল অব ইসলাম’, পৃষ্ঠা ৪৪; হানাফি আইন হেদায়া, পৃষ্ঠা ৩৫৩; শফি আইন o.24.9; ‘ক্রিমিন্যাল ল ইন ইসলাম অ্যান্ড দ্য মুসলিম ওয়ার্লড’, পৃষ্ঠা ২৫১। তাহলে জেনার ক্ষেত্রে কেমন সাক্ষী লাগবে?
“হুদুদ মামলায় পারিপার্শ্বিক প্রমাণ চলিবে না।” (চাক্ষুষ সাক্ষী থাকতে হবে)
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ২য় খণ্ড, ধারা ৬০০। “চাক্ষুষ সাক্ষ্য না থাকলে শুধু আলামতের ভিত্তিতে খুনি-ডাকাতের শাস্তি হবে না।”
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ধারা ৬০০-এর বিশ্লেষণ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯২। নারী ছাড়াও অন্য কার কার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। “বোবার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ১ম খণ্ড, ধারা ১৪৯।
“দাস-দাসী, গায়িকা এবং সমাজের নিচু ব্যক্তির (রাস্তা পরিষ্কারকারী বা শৌচাগারের প্রহরী ইত্যাদি) সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬৩; হানাফি আইন পৃষ্ঠা ৩৬১; শফি আইন o.24.3; ‘পেনাল ল অব ইসলাম’, পৃষ্ঠা ৪৬। আর আপনারা যারা জানেন না তাদের জন্য জানিয়ে রাখি, শরিয়া আইনে ডিএনএ টেস্ট প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় ধর্ষণের মামলায়। সাহায্যকারী আলামত হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে।স্বীকারোক্তিই হল একমাত্র সাক্ষীর বিকল্প
“পরকীয়া এবং ধর্ষণের প্রমাণ অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অথবা চারজন বয়স্ক পুরুষ মুসলমানের চাক্ষুষ সাক্ষ্য।”
– পাকিস্তানের হুদুদ আইন, নং ৭-১৯৭৯, সংশোধনী ২০, ৮ এর খ – ১৯৮০। এই মামলায় নারীরা বিচার করতে পারবে?
“হুদুদ মামলায় নারী বিচারক অবৈধ।”
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ২য় খণ্ড, ধারা ৫৫৪। সাক্ষী না পেলে এবং স্বীকারোক্তিও না পেলে কি হবে?
“জেনা ও ধর্ষণ সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ না হইলে জেনাকারীর শাস্তি হইবে না যদি সে অস্বীকার করে।” – ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, প্রথম খণ্ড, ৩০১ পৃষ্ঠা। শাস্তি মৌকুফ এর সুযোগ রয়েছে? ফেসবুক
“কোনো কারণে শাস্তি মওকুফ হইলে ধর্ষক ধর্ষিতাকে মোহরের সমান টাকা দিবে।”
– ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’, ১ম খণ্ড, ৩০১ পৃষ্ঠা, শফি আইন এম ৮-এর ১০। তাহলে নারীরা বিচার পায় কি করে?
সব নারীরা রিপোর্টই করেনা উল্টো শাস্তি পাওয়ার শত শত ঘটনা দেখে। আর সেজন্যই তো আমাদের গৃহকর্মী মা-বোনেরা পেটে বাচ্চা নিয়ে দেশে ফেরে। এবারে বুঝেছেন কেন আরবে ধর্ষণ কম(!)????
ধর্ষণ কম নয়, ধর্ষণের রিপোর্ট কম। যে কোনও শরিয়া আইনের দেশে হাজার হাজার ভিকটিম উল্টো সাজা পেয়েছে প্রমাণ করতে না পেরে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড। আর সেই কারণেই সেখানে কেউই ধর্ষণ এর মামলা নিয়ে আদালতে যায়না। আর হ্যারেজমেন্ট বা বৈবাহিক ধর্ষণের কথা বাদই দিলাম। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছে এগুলো কি পড়ছি?
তাহলে এবারে স্বপ্ন দেখলেন বা ভুল পড়লেন বলে একটা শান্তির ঘুম দিন শরিয়া কায়েম করে ধর্ষণ কমানোর আশায়। ধন্যবাদ।

লিখেছেনঃমাতুব্বর আজাদ অভিজিৎ