Love story Bangla

“কাল তিতলির বিয়ে,আজ গায়ে হলুদ,

বিয়ে বলতে অচেনা এক অনুভুতি সবার মনেই কাজ করে যেটা তিতলির ও আছে,

তিতলি বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে,

সাজ্জাদ সাহেব মেয়েকে ছোট থেকে কোন দিন

কিছুতেই বাধা দেন নি,

যদি ওনাকে বলা হত মেয়ের জন্য নিজের জীবন দিতে, হয়ত তিনি এতটুকুও ভাবতেন না… আর রেহানা বেগমের বন্ধু বলা যায় তিতলিকে.. মেয়েকে সন্দেহের চোখে কখনও দেখেন নি, তিতলি বাবা কে যতটা কথা শেয়ার করে তার থেকে বেশি কথা শেয়ার করে মায়ের সাথে.. এমন কি রাহিমের সাথে সম্পর্কের কথাও ওর মা জানে.. কিন্তু যখন জানতে পেরেছেন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে,

তিনি কিছুই করতে পারেন নি আর পারবেনও না.. সাজ্জাদ সাহেব যে তিতলির জন্য আরো পাঁচ বছর আগে ছেলে ঠিক করে রেখেছেন….

তিতলিও কখনও ভাবেনি রাহিমের সাথে সম্পর্কের এমন পরিণতি হবে…

রাতের বেলা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান,বাড়িতে প্রচুর লোক মেহমান.. তিতলি বাবা কে একা পেয়ে কথা বলতে গেল,

কি রে মা কিছু বলবি?

বাবা আমি বাইরে যাব..

বাইরে কেন তোর কি কিছু লাগবে?

না বাবা ভাল লাগছে না আমি যাই.?

রাতে গায়ে হলুদ এখন বাইরে যাবি কি হয়েছে বল?

কিছুনা বাবা আমি যাই..

-আচ্ছা কাউকে নিয়ে যা..

-লাগবে না আমি একা যাব..

-একা যাবি কি করে?

-যাই বাবা..

-আচ্ছা যা তাড়াতাড়ি ফিরে আসিছ….

কিছু না বলে একটা নীল জামা পড়ে বের

হতে যাবে তিতলির মা বলল,

-জানিনা মা কোথায় যাচ্ছিস?কি করবি?

তবে কিছুটা মনে হচ্ছে.. তোর মা তোকে সার্পোট দিবে, যেটা ভাল বুজিস করিস আমি আছি…

মায়ের মুখ থেকে এমন কথা আশা করেনি তিতলি কিছু না বলে বের হল বাসা থেকে…

অনেকেই অনেক কথা বলছিল ,আবার সবাই

জানে তিতলি খারাপ কিছু করতে যাচ্ছে না…

তিন মাস পর আজ রাহিমের সাথে দেখা হবে,

তিতলি কিংবা রাহিম কেউই জানেনা আজ তাদের জীবন কোন দিকে যাবে…

রাতে ঘুম হয়না রাহিমের গত তিন মাস,

যে মেয়েকে একদিন না দেখলে থাকতে পারত

না রাহিম তাকে তিন মাস দেখেনি….

তিন মাস আগের ঘটনা,

দিনগুলো ভালই কাটছিল দুজনের…

সুখ,অভিমান,ঝগড়া , ভালবাসা..সবই ছিল..

হারানোর ভয় ছিল না..

হঠাত্ই একদিন তিতলির বাবা বাসায় এসে খবর দেয় তিতলির বিয়ের কথা..

ছেলেটাকে ৫ বছর আগে ঠিক করে রাখা আর

সাজ্জাদ সাহেব ছেলের বাবা কে কথা দিয়েছেন….. ছোট থেকে মেয়ের কোন কথা ফেলেননি তিনি,তাই ভেবেই নিয়েছিলেন ওনার মেয়ে ওনার সিদ্ধান্তের

বাইরে যাবে না.. তাই যখন তিতলিকে এই নিয়ে বলা হল তখন তিতলি চুপ

ছিল..একদিকে ভালবাসা অন্যদিকে বিবেক দুটোর মাঝে পড়ে কিছুই বলতে পারিনি…

আর ওর সেদিনের নীরবতাই কেড়ে নিয়েছে রাহিম কে…

রাহিম কে যখন কথা গুলো বলেছিল, রাহিমেরও কিছু করার ছিল না..

রাহিম মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ,পড়ালেখা শেষ করতে পারেনি এখনও..নিজের পায়ে দাড়িয়ে পরিবার কে টানতে হবে আর তারপর বিয়ে… রাহিমের পক্ষে সম্ভব নয়

তিতলিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া… তাই তিনমাস আগে থেকে দেখা করা বন্ধ করে দেয়

দুজন,উদ্দেশ্য নিজেদের সামলে নেওয়া…

ওরা জানেনা কতটা সামলেছে নিজেদের….

আজ হয়ত ওদের শেষ দেখা, রাহিম ছেলেটা সবসময় দেখা করার সময় দেরি করে আসত, ও এমনটা ইচ্ছা করেই করত,যাতে বকা শুনতে হয় তিতলির…

আজ তিতলি যখন পার্কে গেল রাহিম তার আগেই এসে গেছে.. মাথা নিচু করে বসে আছে, তিতলি পাশে গিয়ে বসল..কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল..

-কখন এসেছ?

Love story bangla,, Read and Enjoy.

Love story Bangla Part 2

-২ ঘন্টা আগে..

(তিতলি অবাক হল যে ছেলে দেরি করে আসত,আজ

সে এসেছে তাড়াতাড়ি..হয়ত আগের

সময়গুলো কিছুটা শোধ করে দিচ্ছে)

-এত আগে কেন?

-যদি তুমি আগে এসে আমাকে না দেখতে পেয়ে চলে যাও

তাই..আর…..

-আর কি?

-আর তোমাকে কখনও হারাতে……..

কথাটা শেষ করার আগেই কান্না শুরু করে দিল, দুজনই কাঁদছে.. এই কান্না হয়ত হারাবার কিংবা এতদিন পর দেখতে পাওয়ার…

তারপর দুজনই চুপ,কথা নেই

কারো মুখে..এভাবে কতক্ষণ কাটল

জানা নেই…কখনও চোখ ঝাপসা হয়ে আসল আবার কখনও শুকিয়ে গেল চোখ বেয়ে পড়া সব পানি… সেই সকালে পার্কে এসেছে এখন বিকাল হতে চলল অন্য সময় হলে হয়ত অনেক কথাই হত কিন্তু এতটা সময় দুজনই ছিল চুপ….

রাহিম তিতলির হাতটা ধরে উঠে হাটতে শুরু করল, তিতলি কিছুই বলল না…

একটা সি এন জি তে উঠল.. তিতলি বলল,

-কোথায় যাবে?

-তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি…

(এই কথাটা বোধহয় আশা করেনি তিতলি,

মাথাটা নিচু করে রইল তারপর বলল)

-যখন বাসা থেকে বেরিয়ে আসছিলাম আম্মু

বলেছিল আজ যাই করি যেন ভেবে করি আম্মু

পাশে থাকবে….

(আবার চুপ থেকে তিতলি বলল)

-বাবা অনেক খুশি জানো,সকাল থেকে বেশ

হাসিখুশি..মেয়েকে বিদায় দিবেন এমন কোন চিহ্ন নেই ওনার চোখে মুখে..তারপরও জানি আব্বু কষ্ট পাচ্ছেন… তোমাকে ভুলতে পারব

কিনা জানিনা,তবে চেষ্টা করব আর আমার মেয়ের নাম অপ্সরী রাখব…

(আবার কাঁদতে লাগল তিতলি..

রাহিম বলল)

-চোখে পানি রেখে আমায় বিদায় দেবে?ঐ

হাসিটা দেখতে পাব না একবার..?

(চোখটা মুছে খুব হাসতে চেষ্টা করল তিতলি,কিন্তু পারেনি আর জানি পারবেও না)

সি এন জি টা তিতলির বাড়ির

সামনে দাড়াল, সন্ধ্যা হয়ে এসেছে নানা রং এর

বাতি জ্বলছে…প্রকৃতি যেন

কুয়াশা দিয়ে খুশিটাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে…

সি এন জি থেকে নেমে কিছুটা হেটে থেমে গেল তিতলি,খুব ইচ্ছা করছিল একবার রাহিমের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিতে,

কিন্তু পারল না ওর চোখে যে চিকচিক

করছে পানি…চলে গেল তিতলি…

সি এন জি তে বসে থাকল রাহিম কিছুক্ষণ,তিতলির মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত….

ভাল থাকুক তিতলি আর হাসিটা না হয় ঋণ হিসেবেই রইল কোনদিন তা শোধ করার অপেক্ষায়……

Read another Love Story

We hope you like our Love story bangla collection, If you like these story please share our site in your friends,, Thanks