ইমু মুক্তা ভালোবাসার গল্প (Romantic Valobasar Golpo)

— ইমু দেখ দেখ বৃষ্টি হচ্ছে,আমি ভিজবো

— মুক্তা পাগলামো করে না,

— না না আমি ভিজবো।

— সোনা, লক্ষি বউ আমার এমন করে না। তুমার সাইনাসের সমস্যা আছে।

বলতে না বলতেই মুক্তা দৌড়ে ছাদে চলে গেল। আবার ছাদে গিয়ে ই ছাদের দড়জা লক করে দিয়েছে যাতে আমি না আনতে পারি।

,

রাতে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছি। ঠিক তখন ই মুক্তা আমার কাছে এলো চোখ দুটু লাল হয়ে গেছে,কপালের রগ ও ফুলে রয়েছে।

— আ আ আ ছু….

— লাগলো তো ঠান্ডা

— বেশ হয়েছে ।

রাত আনুমানিক দেড় টা বাজে, আমি জেগে জেগে মুক্তার মাথায় পানি দিচ্ছি। পানি দিতেও ভয় করছে প্রথম তো সাইনাসে সমস্যা দ্বিতীয় জ্বর। সারারাত্র ওর মাথা পাশেই বসে ছিলাম।

সকাল সকাল অফিসের কাজে বের হয়ে গেলাম। বাসায় আম্মুকে বলছি মুক্তার খেয়াল রাখতে ।

,

বিকেলেও বৃষ্টি হচ্ছে তবুও ভিজে ভিজে বাসায় গেলাম।কেননা মুক্তা অসুস্থ।

বাসায় গিয়ে ই দেখি মুক্তা বৃষ্টিতে ভিজছে।

— তুমি আবার বৃষ্টিতে ভিজছো কেন (বেশ রেগে ই বললাম)

— হু সরি

— ঠাস, বেয়াদব মেয়ে আমি কাল মানা করেছি না তুমায়।

— আমার বৃষ্টি পছন্দ তাই তো ভিজি।

আবার দিলাম আরেক চড়। বেশ রাগ উঠে গেল। ছাদ থেকে টানতে টানতে রুমে আনলাম।

— তুমায় এখনি তুমার আব্বু আম্মুর বাসায় রেখে আসবো।ব্যাগ গুছাও।

— না আমি এখন যাব না

— গুছাতে বলছি আমি (চিৎকার করে)

সে ব্যাগ গুছালো। আমিও তাকে গাড়ি করে তার আব্বুর বাসায় রেখে আসলাম। সারারাস্তা সে কান্না করেছিল।

,

মুক্তাকে ছাড়া বাড়ি টা কেমন যেন খালি খালি লাগে। কেউ আর বাচ্চামি করে না,আমিও কাউকে ধমক দিতে পারি না। আজ ৪ দিন হলো সে নেই। ফোন দিয়েও কোন খোজ নেইনি । খুব রাগ উঠেছিল মেয়েটা কেন যে নিজের ভালো বুজেনা কে জানে।

কাপড় বের করতে গিয়ে হঠাৎ করে মুক্তার একটা ডাইরি পেলাম।প্রথম পেজ উল্টাতেই দেখি “ভালোবাসি তুমায় ইমু “

লেখা। পুড়া ডাইরি পড়লাম সবখানে আমাকে নিয়েই তার হাজারো পঙ্কমালা। কিছু কিছু ক্ষুদ্র পাগলামিতে ভরপুর।

না মেয়েটাকে ছাড়া দম বন্ধ হয়ে আসছে ওকে নিয়ে আসতে হবে ।

,

আজ ৫ দিন পর মুক্তার বাসায় গেলাম। আমায় দেখেই মুখটা বাকা করে ফেললো । হেসে ফেললাম তার পাগলামি দেখে।।

— চলো বাসায় চলো

— না যাব না।

— আবার চড় দিবো, চলো

— না যাবনা আমি

— ওকে আমি যাই তাহলে,

আমি আস্তে করে তাদের বাসা থেকে বের হয়ে আমার গাড়িতে এসে বসলাম। স্টার্ট দিব ঠিক তখনই পাশের ছিটে দেখি মুক্তা বসে আছে।

কোন কথা না বলেই গাড়ি স্টার্ট করলাম। মুখে রাগি ভাব টা ও বেশ ফুটিয়ে তুললাম। অধের্ক রাস্তা আসতেই বৃষ্টি নেমে গেল।

মুক্তা বাইরে তাকিয়ে আছে, চোখে হাজারো কষ্টের আর্তনাদ। যেন আজ সে খাচার পোষা পাখি এই খাচা ভেঙ্গে বৃষ্টাতে সে বহুদুর পাড়ি দিতে পারবেনা। চোখ দিয়ে আস্তে করে গরম জল ও গড়িয়ে পড়লো তার। ঠোট টা কামড়ে দরে বসে আছে সে।

,

রুমে এসে বসে আছি ঠিক তখনও বাইরে বৃষ্টি। হঠাৎ মুক্তার চোখ টা কালো কাপড় দিয়ে বেদে ফেললাম।

— কি করছো ইমু

— চুপ থাকো এমনি দেখতে পাবে

কোলে করে তাকে ছাদে নিয়ে গেলাম। চোখ থেকে যখন ই কাপড় টা খুলে দিলাম সে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।

— ওয়াও….. ( জোরে চিৎকার করে)

— আস্তে কান ফাটিয়ে ফেললে তো

— এটা আমার জন্য?

— হুম এটা আমার কিউট বউ এর জন্য ই।

— থিঙ্কু

— তুমার না স্বপ্ন ছিল ছাদের মধ্যে কাচের একটা বড় রুম হবে। পাশে একটা জানালা। যখন বৃষ্টি হবে বৃষ্টির ফোটা টুপটুপ করে যখন গ্লাসে পড়বে আর সেই পানি গড়িয়ে তুমার আঙ্গুল বেদ করে নিচে চলে যাবে। বৃষ্টির শব্দ তুমি অনুভব করতে পারবে। কাচের গ্লাসে দু হাত প্রসারিত করে ধরে রাখবে আর বৃষ্টির ফোটা তুমার ওই নগ্ন হাতদ্বয় শীহরিত হবে। হলো স্বপ্ন পুরন? এখন আর বৃষ্টি বিলাসে বাধা দিব না, মারবো ও না।

মুক্তা দৌড়ে এসে আমায় জড়িয়ে দরে কাদতে শুরু করলো। আর বলতে লাগলো

— অনেক ভালোবাসো আমায় তাই না?

— কি জানি,

— হুম জানি অনেক ভালোবাসো

কাচের ঘরের জানালা টা খুলে দিলাম এক ঝাপটা পানি এসে মুক্তার মুখে পড়লো। তার লাল কম্পিত ঠোট থেকে ঝর ঝর করে এক বিন্দু জল পড়তে লাগলো। মাঝেমধ্যে হিংসে হয় মেয়েটির লিপস্টিক এর উপর। কেন ওই লিপস্টিকের মতো আমি বেষ্টিত হতে পারি না তার উষ্ঠে।

সে জানালার পাশে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে বাতাসে তার মিষ্টি গন্ধযুক্ত চুল উড়ছে।

হঠাৎ তার পাশে গিয়ে দাড়ালাম। ধোয়া উড়া কফির মগ টা এগিয়ে দিলাম, সে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে কফির কাপ টা নিয়ে বললো

— বাহ্ আজ দেখি আমার জামাইটা বেশ রোম্যান্টিক হয়ে গেল।

— তা তো সবসময় ই

সে তার কফিতে চুমুক দিয়ে কাপ টা রাখার সাথে সাথেই আমি কাপ টা নিয়ে নিলাম।

— কাপে আমার লিপস্টিক ভরে আছে তো!

— থাক কফির সাথে লিপস্টিক এর স্বাধ কিন্তু অসাধারণ লাগে ।

— মানে! তুমি আগে তাহলে অন্য মেয়ে সাথে………

— চুপ উল্টাপাল্টা কিছু বললে মাইর দিব।

— হু (মুখ বাকা করে)

ধমকা বাতাস,বৃষ্টি, লিপস্টিক মাখা ধোয়া উড়া কফির মগ,সাথে সুন্দরী বউ এর সাথে সিগারেট না হলে কি জমে?

সিগারেট টা জ্বালানোর সাথে সাথেই

— তুমি সিগারেট খাচ্ছ কেন ইমু?

— বৃষ্টির দিনে বেশ লাগে

— ফালাও বলছি

— না

— ফালাতে বলছি

— ইহ এত কষ্ট করে কাচের রুম বানালাম কোথাই পাপ্পি দিবে তার বদলি ধমক দিচ্ছ। আর এত কষ্টের পর তো ১ টা সিগারেট খেতেই পারি তাই না?

— ভালো কথা বানাতে শিখে গেছ। আচ্ছা যাও শুধু আজ ই খাবা।

— না প্রতিদিন বৃষ্টি হলে খাবো,

–না

— প্লিজ

— আচ্ছা খাও, তাহলে আমার লিপস্টিক এর প্রতি হিংসে করে ও লাভ হবে না।

— এই না না বাবু,, আমি সিগারেট খাবো না।

— সত্য তো

— হুম,

— পাগল একটা

— তুমার পাগল। একটা দাও না প্লিজ

— কি!

— উইটা

— মাইর দিব,,

বলেই মেয়েটি আমার হাতের আঙ্গুলে তার আঙ্গুল গুলো ভরে দিল। আর আমার গালে ছোট করে চুমু খেল। আর কানে কানে বললো ভালোবাসি ইমু,তুমায় পচন্ড ভালোবাসি।

,,

গল্প– বৃষ্টিবিলাস

বাউন্ডু

কাশেম মীর

আমি কাশেম মীর, পেশায় একজন ব্লগার এবং বাংলা জুম এর প্রতিষ্ঠাতা। বাংলা জুম বিনোদন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, ছাড়াও অন্যান্য সকল বিষয় বাংলায় আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করে।

You may also like...