২০১৭ সালে সবর্শেষ সংস্করণ আইন বই হতে নেয়া

যৌতুক নিরোধ আইন
(১৯৮০ সালের ৩৫ নং আইন)

(বিবাহে যৌতুক গ্রহন ও প্রদান বিরোধকল্পেপ্রণীত আইন)
যেহেতু বিবাহে সমুহে যৌতুক গ্রহন ও প্রদান রদকল্পে বিধান করা সমীচীন; সেহেতু, এতদ্বারা নিন্মরুপ আইন প্রণয়ন করা হইল:
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম প্রবর্তন;
(১) এই আইন ১৯৮০ সালের “যৌতুক নিরোধ আইন” নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার কতৃর্ক সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ হইতে ইহা বলবৎ হইবে।

২। সংজ্ঞা:
বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি না হইলে, এই আইনে “যৌতুক” বলিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত যে কোন সম্পত্তি বা “মুল্যবান জামানত” কে বুঝাইবে, যাহা
(ক) বিবাহের এক পক্ষ অপর পক্ষকে: অথবা
(খ) বিবাহের কোন এক পক্ষের পিতা মাতা বা অন্য কোন ব্যক্তি কতৃর্ক বিবাহের যে কোন পক্ষকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে বিবাহ মজলিশে অথবা বিবাহের পূর্বে বা পরে, বিবাহের পণরুপে প্রদান করে বা প্রদান করিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়: তবে, যৌতুক বলিতে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) মোতাবেক ব্যবস্থিত দেনমোহর বা মোহরানা বুঝাইবে না।

৩। যৌতুক প্রদান বা গ্রহনের দন্ডঃ
এই আইন বলবৎ হওয়ার পর, কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহন করিলে অথবা যৌতুক প্রদান বা গ্রহনে সহায়তা করিলে, সে সর্বাধিক পাঁচ বৎসর এবং এক বৎসর এর নিম্নে নহে মেয়াদের কারাদন্ড বা জরিমানা অথবা উভয়বিধ প্রকারে দন্ডনীয় হইবে।

৪। যৌতুক দাবী করার দন্ডঃ
এই আইন কাযর্করী হওয়ার পর কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনে বা বরের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট যৌতুক দাবী করিলে, সে সর্বাধিক পাঁচ বৎসর এবং এক বৎসর এর নিম্নে নহে মেয়াদের কারাদন্ড বা জরিমানা অথবা উভয়বিধ প্রকারে দন্ডনীয় হইবে।

৫। যৌতুক প্রদান বা গ্রহনের চুক্ত বাতিল বলিয়া গণ্য হইবেঃ
যৌতুক প্রদান বা গ্রহেনর যে কোন চুক্তপত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

৬। স্ত্রী বা তাহার উত্তরাধিকারীগণের উপকারার্থে যৌতুকঃ
ধারাটি ১৯৮৪ সনের ৬৪ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে।

৭। অপরাধসমুহের আমলঃ
১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি কোষে (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইনে) যাহাই থাকুক না কেন-
(ক) এই আইনের কোন অপরাধ প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেটের নিম্নের আদালত বিচার করিবন না;
(খ) অপরাধ সংগঠনের তারিখ হইতে এক বৎসর এর মধ্যে অভিযোগ না করিলে, কোন আদালত অত্র আইনের কোন অপরাধ আমলে লইবেন না।
(গ) অত্র আইনমতে আমলযোগ্য অপরাধের জন্য, অপরাধী ব্যক্তিকে এই আইন অনুযায়ী যে কোন দন্ড প্রদানে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট বৈধ ক্ষমতার অধিকারী হইবেন।

৮। অপরাধসমুহ আমল-অযোগ্য, ইত্যাদিঃ
এই আইনের প্রত্যেক অপরাধই আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোষ যোগ্য হইবে।

৯। বিধি প্রণয়ন ক্ষমতাঃ
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যাবলী কাযর্করীকরনার্থে সরকার, সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন।
(২) এই ধারা মতে প্রণীত প্রত্যেকটি বিধি প্রণয়নের পরপরই সংসদের নিকট পেশ করিতে হইবে। সংসদের অধিবেশন সমাপ্তির পূবেই যদি সংসদ এই মর্মে একমত হন যে, প্রণীত বিধির রদবদল প্রয়োজন বা উহা প্রণয়ন সমীচীন নহে, তদনুযায়ী কেবলমাত্র রদবদলকৃত বিধিব্যবস্থা কাযর্করী হইবে অথবা উহা আদৌ কার্যকরী হইবে না। তবে শর্ত যে, অনুরূপ রদবদলকৃত বা বাতিলকৃত বিধিবলে কোন ব্যবস্থা ইতিপূর্বে গৃহীত হইয়া থাকিলে, গৃহীত ব্যবস্থার বৈধতা খর্ব হইবে না।