২০১৭ সালে সবর্শেষ সংস্করণ আইন বই হতে নেয়া
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯
(১৯৩৯ সালের ৮ নং আইন)

ধারা-১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও আওতাঃ
১) অত্র আইন মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ, ১৯৩৯ নামে পরিচিত হইবে।
২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে।
ধারা ২। বিবাহ বিচ্ছেদ ও ডিক্রি লাভের কারণসমুহঃ
(১) মুসলিম আইন অনুসারে কোন বিবাহিতা স্ত্রীলোক নিম্নেলিখিত এক বা একাধিক কারণে তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারিণী হইবে। যথাঃ
(১) চার বৎসর কাল পর্যন্ত স্বামী নিখোঁজ।
(২) দুই বৎসর কাল পর্যন্ত স্বামী তাহাকে ভরণপোষণ প্রদানে অবহেলা করিয়াছে বা ব্যর্থ হইয়াছে।
(২) (ক) ১৯৬১ সনের মুসলিম পরিবার আইন অধ্যাদেশের বিধান অমান্য করিয়া স্বামী অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করিয়াছে।
(৩) সাত বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্য স্বামী কারাদন্ডে দন্ডিত হইয়াছে।
(৪) যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামী তিন বৎসর কাল যাবৎ তাহার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে।
(৫) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন ছিল এবং তাহার ঐরুপ অবস্থা অব্যহত আছে।
(৬) দুই বৎসর পর্যন্ত স্বামী অপ্রকৃতিস্থ রহিয়াছে বা কুষ্ঠরোগ অথবা মারাত্বক যৌন রোগে ভুগিতে থাকে।
(৭) বয়স ১৬ বৎসর পুর্ণ হইবার আগে তাহাকে তাহার বাবা অথবা অন্য কোন অভিভাবক বিবাহ দিয়াছে ও বয়স ১৮ বৎসর পুর্ণ হইবার আগে সে (স্ত্রীলোক) উক্ত বিবাহ নাকচ করিয়াছে। শর্ত থাকে যে, বিবাহে যৌন মিলন ঘটে নাই।
(৮) স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করে; যেমন-
ক) তাহাকে স্বভাবতঃই আক্রমণ করে বা নিষ্ঠুর আচরণের মাধ্যমে তাহার জীবন দুর্বিসহ করিয়া তোলে- ঐরূপ আচরণ শারিরীক নির্যাতন নাও হয়, বা
খ) খারাপ চরিত্রের নারীগণের সংগে থাকে অথবা ঘৃণ্য জীবন-যাপন করে; বা
(গ) তাহাকে নৈতিকতাহীন জীবন-যাপনে বাধ্য করিতে চেষ্টা করে; বা
(ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা উক্ত সম্পত্তিতে তাহার আইনসঙ্গত অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে; বা
(ঙ) তাহাকে তাহার ধর্ম বিশ্বাস অথবা ধর্ম চর্চায় বাধা প্রদান করে; বা
(চ) যদি তাহার একাধিক স্ত্রী থাকে তবে কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সে তাহার সঙ্গে ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহার না করে;
(৯) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের নিমিত্ত বৈধ বলিয়া স্বীকৃত অপর কোন কারণে তবে শর্ত থাকে যে,
ক) দন্ডাদেশ চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রি দেওয়া হইবে না।
খ) ১নং উপধারায় বর্ণিত কারণে দেওয়া ডিক্রি উহার তারিখ হইতে ৬ মাস কাল পর্যন্ত কার্যকর হইবে না; এবং স্বামী যদি উক্ত সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে বা কোন ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া আদালতকে সন্তোষজনক উত্তর দেয় যে, সে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছে তবে আদালত উক্ত ডিক্রি নাকচ করিবেন; এবং
গ) ৫নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রি দেওয়ার পূর্বে আদালত স্বামীর আবেদনক্রমে তাহাকে আদেশ প্রদান করিতে পারেন যে, অত্র আদেশের তারিখ হইতে ১ বৎসর কালের মধ্যে সে আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমান করিতে হইবে যে, সে পুরুষত্বহীনতা হইতে আরোগ্যলাভ করিয়াছে; এবং যদি স্বামী উক্ত সময়ের মধ্যে ঐরূপে আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে পারে তবে উক্ত কারণে কোন ডিক্রি দেওয়া হইবে না।
ধারা-৩। নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধীকারদের উপর নোটিশ প্রদানঃ
২নং ধারার ১নং উপধারার প্রয়োগযোগ্য মামলায়-
(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর মুত্যু ঘটিলে তবে মুসলিম আইন অনুসারে যাহারা তাহার উত্তরাধীকারী হইত তাহাদের নাম, ঠিকানা, আরজিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে;
খ) ঐরূপ বক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করিতে হইবে; এবং
গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাহদের বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোন চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তাহার উত্তরাধিকারী না হইলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হইবে।
ধারা-৪। অন্য ধর্ম গ্রহণের পরিণতিঃ
বিবাহিতা মুসলিম মহিলা ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ অথবা উক্ত ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করিলে সেইজন্য তাহার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেনা।
শর্ত থাকে যে, ঐরূপ ধর্ম ত্যাগ অথবা অন্য ধর্ম গ্রহণ করিবার পর উক্ত মহিলা ২ ধারায় উল্লেখিত যেকোন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারিণী হইবে।
আরও শর্ত থাকে যে, কোন বিধর্মী মহিলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিবার পর পূনরায় তাহার পূর্ব ধর্মে ফিরিয়া আসিলে অত্র ধারার বিধানসমুহ তাহার প্রতি প্রযোজ্য হইবে না।
ধারা-৫। দেনমোহরের অধিকার খর্ব করিবে নাঃ
অত্র আইনে বর্ণিত কোন কিছু মুসলিম আইন অনুসারে বিবাহিতা কোন মহিলার প্রাপ্য দেনমোহরে অথবা উহার কোন অংশের অধিকার তাহার বিবাহ বিচ্ছেদ কর্তৃক প্রভাবিত হইবে না।